সারমর্ম
এক সোশ্যাল মিডিয়া পোষ্টে দাবি করা হয়েছে গাজরের তেল দিয়ে বলিরেখা বা রিংকেল দূর করা যায়। আমরা এর ফ্যাক্ট চেক করে দেখে জেনেছি এই দাবি অনেকাংশে ভুল।

দাবি
অনেক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হয়েছে যে গাজরের তেল বলিরেখা দূর করতে পারে। আপনি এখানে এই ধরনের পোস্ট দেখতে পারেন।
সত্যানুন্ধান
গাজরের তেল কী কার্যকরীভাবে বলিরেখা দূর করতে পারে?
না, তা নয়, সেভাবে পারে না। গাজরের তেল কার্যকরীভাবে বলিরেখা নাও দূর করতে পারে। গাজরের তেল যে উল্লেখযোগ্যভাবে রিংকেল বা ত্বক কোঁচকানো কমিয়ে ফেলতে বা দূর করতে পারে তার স্বপক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। যদিও ত্বকের যত্নে গাজরের তেলের বিশেষ ভূমিকা আছে, কিন্তু বলিরেখা দূর করতে এর কার্যকারিতার বিষয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ খুব কম।
যেমন, একটি গবেষণা করা হয় গাজরের বীজ দিয়ে তৈরি ক্রীম নিয়ে। সেখানে দেখা যায় ত্বকের মধ্যে জলীয় ভাব বা হাইড্রেশনে ভালো কাজ দিচ্ছে কিন্তু বলিরেখা কমানোয় উল্লেখযোগ্য কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সেরকমই গবেষণা করা হয়েছে ওয়াইল্ড ক্যারোট এসেনশিয়াল অয়েল নিয়ে, সেখানে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ ত্বকের উপকারে কাজে লাগছে তা বোঝা গেছে কিন্তু তাও বলিরেখা দূর করার ক্ষেত্রে সরাসরি প্রভাব কিন্তু দেখা যায়নি।
অন্য একটি গবেষণায় এর ময়েশ্চারাইজ করা ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উপকারিতা আরো ভালো প্রমাণ পাওয়া গেছে কিন্তু বলিরেখা কমানোর স্বপক্ষে নিদির্ষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মোটের ওপর, ত্বক ভালো রাখতে যদিও গাজরের তেলের উপকারিতা দেখা গেছে, কিন্তু রিংকেল দূর করতে এর বিশেষ কার্যকারিতা নিয়ে আরো জোরালো গবেষণার প্রয়োজন।
একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা ডার্মাটোলজিষ্ট কী বলেন?

ফরিদাবাদের অমৃতা হাসপাতালের একজন ডার্মাটোলিজিষ্ট, ডাঃ শচীন গুপ্তা তার মূল্যবান মতামতে জানিয়েছেন, ”সাম্প্রতিক গবেষণাগুলির সীমিত ও অমীমাংসিত প্রকৃতির জন্য যেখানে চিকিৎসায় প্রমাণিত উপকারিতার কার্যকারিতা রয়েছে তা বেছে নেওয়া উচিত।“ আপনি এটা জেনে রাখুন যে গাজরের তেল হয়ত খুব ভালো ময়েশ্চারাইজার। এছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন। কিন্তু, এটা বলা অতিরঞ্জিত হয়ে যাবে যে এই তেলের রিংকেল দূর করার ক্ষমতা রয়েছে। কার্যকরভাবে বলিরেখা কমানোর জন্য সাধারণত রেটিনয়েড, পেপটাইড বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের মতো উপাদানের প্রয়োজন হয় যা কোলাজেন বাড়ায় এবং ত্বকের নমনীয়তা বা ইলাস্টিসিটি ভালো করে।
বলিরেখার জন্য কী গাজরের তেল ভালো?
গাজরের তেলের মধ্যে অনেকটা পরিমাণে বিটা–ক্যারোটিন ও ভিটামিন এ থাকে, যার অ্যান্টঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। যদিও এর কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুরক্ষা ও ত্বকের ক্ষেত্রে অল্প উপকারিতা রয়েছে, কিন্তু রিংকেল বা বলিরেখা কমাতে এর কার্যকারিতা ততটা প্রমাণিত নয় যতটা আরো জোরালো চিকিৎসা যেমন রেটিনয়েড করে। বিশেষভাবে বলিরেখা দূর করতে গেলে ডার্মাটোলিজিষ্ট আপনার নির্দিষ্ট প্রয়োজনের উপর নির্ভর করে আরও শক্তিশালী ফর্মুলেশনের পরামর্শ দেন।
গাজরের তেলের উপকারিতাগুলো কী কী?
গাজর তেলের কিছু সম্ভাব্য উপকারিতা নিচে দেওয়া হল:
১। ময়েশ্চারাইজ করাঃ গাজরের তেল খুব ভালো একটি ময়েশ্চারাইজার, যা ত্বকে হাইড্রেশন বজায় রাখে এবং ডিহাইড্রেশনের ফলে দেখতে পাওয়া ত্বকের সূক্ষ্ম রেখাগুলো কমিয়ে ফেলতে পারে।
২। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যঃ গাজরের তেলে থাকে বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, সি ও ই -এর মত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ফ্রি র্যাডিক্যালস থেকে হওয়া অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে।
৩। গ্যাস্ট্রোপ্রোটেক্টিভ: ইঁদুরের ওপর করা একটি প্রাণী-গবেষণায় দেখা গেছে যে আলফা-পাইনিন গ্যাস্ট্রিক আলসারের প্রবণতা কমিয়েছে।
তবে, এই বৈশিষ্ট্যগুলি সাধারণভাবে ত্বককে ভালো রাখতে সাহায্য করে, কিন্তু বলিরেখা কমাতে গাজরের তেলের কার্যকারিতার বিষয়ে নির্দিষ্ট গবেষণাভিত্তিক প্রমাণের এর সংখ্যা খুব কম।
ত্বকের ওপর গাজরের তেলের কী কী অপকারিতা রয়েছে?
উপকারিতা থাকলেও গাজরের তেলের কিছু অপকারিতা আছেঃ
১। অ্যালার্জির সমস্যাঃ কারোর কারোর ক্ষেত্রে অ্যালার্জির সমস্যা যেমন লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি বা র্যাশ হতে পারে।
২। ফটোসেনসিটিভিটিঃ গাজরের তেল থেকে সূর্যের আলোয় ত্বকের মধ্যে সংবেদনশীলতা তৈরি হয়, তা থেকে সানবার্ণ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
৩। কমেডোজেনিসিটিঃ কোনো কোন ধরণের ত্বকের ক্ষেত্রে এ থেকে কমেডোজেনসিটির মত সমস্যা দেখা দেয়, এতে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায় ও অ্যাকনে দেখা দিতে পারে।
যদিও গাজরের তেল ত্বকে নানা উপকার করে, যেমন ময়েশ্চারাইজ করে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সুরক্ষা দেয়, তা সত্ত্বেও রিংকেল বা বলিরেখা দূর করার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতার স্বপক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অভাব রয়েছে। প্রতিদিনের স্কিনকেয়ার রুটিনের এটি অঙ্গ হতে পারে কিন্তু রিংকেল দূর করার ক্ষেত্রে এটিকে একমাত্র উপায় করলে কাঙ্খিত ফল পাওয়া যায় না। যারা কার্যকরীভাবে বলিরেখা কমিয়ে ফেলতে চান, আমরা তাদেরকে ডার্মাটোলজিষ্টের পরামর্শ নিয়ে গবেষণা ভিত্তিক চিকিৎসাশাস্ত্রে প্রমাণিত পদ্ধতির সাহায্য নিতে বলব। যেকোন এলোপাথাড়ি সোশ্যাল মিডিয়া দাবিতে বিশ্বাস করা ক্ষতিকারক হতে পারে, তাই আমরা সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেব।
Disclaimer: Medical Science is an ever evolving field. We strive to keep this page updated. In case you notice any discrepancy in the content, please inform us at [email protected]. You can futher read our Correction Policy here. Never disregard professional medical advice or delay seeking medical treatment because of something you have read on or accessed through this website or it's social media channels. Read our Full Disclaimer Here for further information.
