ফ্যাক্ট চেক – ধুমপানের কারণে হওয়া ফুসফুসের ক্ষতি কি ডায়েটের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব?

সারমর্ম

অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ইউজার, হেলথ ব্লগার এবং প্রোডাক্টের নির্মাতারা দাবী করেন কিছু খাবার ফুসফুসকে পরিষ্কার করতে এবং বিষমুক্ত করতে সাহায্য করে। একাধিক ভেষজ ও খাদ্যদ্রব্য ফুসফুস পরিষ্কার করতে সাহায্য করে বলে দাবী করা হয়। আমরা ফ্যাক্ট চেক করে দেখেছি এধরনের দাবী অর্ধসত্য

দাবি

একগুচ্ছ হেলথ ও ডায়েট সংক্রান্ত আর্টিকেল ও ভিডিও আছে যেগুলির শিরোনাম, “ধূমপায়ীদের ফুসফুস বিষমুক্ত করার স্বাস্থ্যসম্মত খাবার।” ফেসবুকে আর একটি ভিডিও দেওয়া আছে, যেখানে দাবী করা হয়েছে “ধূমপান ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু ভাল খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের মাধ্যমে ফুসফুস সুস্থ হওয়ার কাজ শুরু হয়ে যায়।” এধনের পোষ্ট এখানে, এখানে এবং এখানে দেখতে পাবেন।

নীচে একটি স্ন্যাপশটও দেওয়া হল।

সত্যানুন্ধান

ধূমপানের ফলে কি ফুসফুসের ক্ষতি হয়?

হ্যাঁ। ফুসফুসের ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ হল ধূমপান।

ডায়েটের মাধ্যমে কি ফুসফুসের অবস্থার উন্নতি করা যায়?

হ্যাঁ। কিছু ক্ষেত্রে করা যায়।

গবেষনায় দেখা গেছে কিছু খাবার ফুসফুসের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। ২০১৭-য় করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে ৪০ বছরের উর্দ্ধ মানুষদের ক্ষেত্রে দিনে দুবার গ্রীন টি পান করলে অবস্ট্রাক্টিভ লাংস ডিজিস কমে যায়।  ওই বছরে করা আর একটি গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট অ্যাস্থমা রোগীদের ক্ষেত্রে খানিকটা উপষমের কাজ করে। অনেক গবেষণা রয়েছে যেখানে দেখানো হয়েছে ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে সঠিক ডায়েট মেনে চললে ফুসফুসের ক্যানসার রোধ করা যায়।

এরকমই “নিউট্রিশন ও লাং হেলথ” এর গবেষণায় বলা হয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, জিঙ্ক ইত্যাদি ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। গবেষকরা জানিয়েছেন, “প্রচুর পরিমাণে তাজা ফল এবং কিছু সবজি ফুসফুসকে ভাল রাখতে সাহায্য করে, এবং নিয়ম করে এগুলি প্রত্যেকদিন খাওয়া উচিত।” কিন্তু একইসঙ্গে জানানো হয়েছে “ফুসফুসের রোগের ঘটনা এবং বিবর্তনের উপর খাদ্যের প্রভাব নির্ধারণের জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।”

ডঃ সার্থক রাস্তোগি, DNB (পালমোনোলজি) বলেছেন, “ডায়েট ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ফুসফুসের কাজ ঠিক রাখতে গেলে ওজন কমানো একটা উপায় হতে পারে। স্থূল ও বেশী ওজনের মানুষেরা যখন ভালো পরিমাণে ওজন কমিয়ে ফেলেন তখন তাদের শ্বাস নেওয়া সহজতর হয়ে যায় কারণ তখন ফুসফুস সহজেই নড়াচড়া করতে পারে এবং ফুসফুস পুরো মাত্রায় কাজ করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও ব্যায়াম পেশীগুলিকে সঠিক ভাবে চালনা করতে, পেশীগুলিকে সবল হতে সাহায্য করে, এটি করতে মানুষের আর শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয় না কারণ ফুসফুসের কাজ ঠিকঠাক চলে। যাদের অ্যাস্থমা আছে তারা যদি বুঝতে পারেন কিছু খাবার বা পরিবেশের কিছু জিনিসে তাদের সমস্যা বাড়ে এবং সেই মতো সঠিক খাবার খান তাহলে তাদের ফুসফুস ক্ষতি হওয়া থেকে বাঁচতে পারে এবং তাদের ফুসফুসের কাজকর্মও ঠিকভাবে চলতে পারে।”

ডায়েটের মাধ্যমে কি ফুসফুস পরিষ্কার করা বা ক্ষতি হওয়ার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব?

না। খুব অল্পই বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আছে যেখানে বলা হচ্ছে ধূমপায়ীদের ফুসফুস ডায়েটের মাধ্যমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।

এখনও পর্যন্ত একটি মাত্র গবেষণা আমরা খুঁজে পেয়েছি যেখানে গবেষকরা দেখেছেন ধূমপানে ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুসকে টমেটো ও আপেল তাড়াতাড়ি সারিয়ে তুলতে পারে। কিন্তু ওই গবেষণা থেকে কারণ ও প্রভাবের স্বপক্ষে কোন প্রমাণ নেই। এবং গবেষকরা জানিয়েছেন, “ডায়েটকে চিকিৎসার পরিপূরক হিসেবে দেখা উচিত, বিকল্প হিসেবে নয়।”

ডঃ রাস্তোগি সহমত হয়ে বলেছেন, “একজন ধূমপায়ীর ফুসফুসকে বিষমুক্ত বা পরিষ্কার করার জন্য ডায়েট খোঁজা, রামধনুর শেষে সোনার পাত্র খুঁজে পাওয়ার মতো। এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ নেই যে কোনো ডায়েট ধূমপান বা দূষণের কারণে ফুসফুসের ক্ষতিকে সারিয়ে তুলতে পারে।”

ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুসকে কি অন্য কোন উপায়ে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব?

না। ফুসফুসকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কোন উপায় (ডায়েট সহ) সম্পর্কে কোন প্রমাণ নেই।

ডঃ রাস্তোগী বলেছেন, “ফুসফুসের ক্ষতি থেকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই, কিন্তু আমরা আশা করতে পারি যে ধূমপান ছেড়ে দিলে ফুসফুস স্বাভাবিক ভাবেই ঠিক হবে এবং আরও বেশী করে ক্ষতি হওয়া রোধ হবে। যখন ধূমপান বন্ধ হবে ফুসফুসের ক্ষতি হওয়ার হার কমে আসবে এবং সক্রিয় ধূমপায়ীদের থেকে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও ধীরে ধীরে কমে আসবে।”

যদিও ফুসফুস পরিষ্কার করার কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে যেমন ব্রঙ্কিয়াল ল্যাভাজ এবং পালমোনারি অ্যালভিওলার প্রোটিনোসিস (প্যাপ)। তবে প্যাপ বা ব্রঙ্কিয়াল ল্যাভাজ কোনটিই ধূমপান, দূষণ বা রোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুসের চিকিৎসায় উপযোগী নয়। কিছু ক্ষেত্রে, ইনফ্ল্যামেটরি রেসপন্স ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুস সারিয়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।ডঃ রাস্তোগী শেষে আরও বলেছেন, “ফুসফুসকে রক্ষা করার একটাই উপায় হল আজই ধূমপান ছেড়ে দেওয়া। ডায়েটে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকলে ফুসফুস সারিয়ে তুলতে কিছুটা সাহায্য হতে পারে কিন্তু ধূমপান চালিয়ে যাওয়া ফুসফুসের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর যা ফুসফুসকে সারিয়ে তুলতে, পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বা বিষমুক্ত করতে সাহায্য করতে পারে না। ভিটামিন, মিনারেল সমৃদ্ধ সুষম খাবার, কম চর্বিযুক্ত ও প্রসেসড খাবার, শরীরের ওজন ঠিক রাখা, ধূমপান ছেড়ে দেওয়া এবং শেষে নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমেই ফুসফুস সঠিকভাবে কাজ করতে পারে।

Disclaimer: Medical Science is an ever evolving field. We strive to keep this page updated. In case you notice any discrepancy in the content, please inform us at [email protected]. You can futher read our Correction Policy here. Never disregard professional medical advice or delay seeking medical treatment because of something you have read on or accessed through this website or it's social media channels. Read our Full Disclaimer Here for further information.